Image
 
Gifts: Misti | Mahabhoj | Cake
Movie: Bengali | Hindi | Satyajit
Music: Rabindra | Najrul | Adhunik
Books: Children | Pujabarshiki | Novel
নেতাজীর হোমফ্রন্ট- ৯ প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন সত্যব্রত মজুমদার   
আর্টিকেল সূচি
নেতাজীর হোমফ্রন্ট- ৯
পাতা 2
পাতা 3

এর আগে

ভারতীয় চীনাদের নিয়ে হোমফ্রন্ট সংগঠন প্রচেষ্টায় নেতাজীর দূত মুক্তিপূজারী চিরস্মরণীয় শ্রী লী

১৯৪৫ সনের একটি বিশেষ দিন লেখকের মনের মনিকোঠায় দিনটি অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। মিলিটারী সিকিউরিটি প্রভৃতি বিভিন্ন আস্তানায় আতিথেয়তা লাভের পর আবার লর্ড সিংহ রোডের চার সেলের এক সেলে (৩ নং) নূতন করে প্রতিষ্ঠা। পাশের ১ নং ও ২ নং সেলে রয়েছেন ডাঃ পবিত্র রায় ও শ্রী অমৃত সিং গিল।

সেদিন তখনও দিনের আলো ফোটেনি। প্রায় নগ্ন, ক্ষতবিক্ষত দেহ অথচ বলিষ্ঠ চীনদেশীয় এক যুবককে লেখকের সেলে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হলো। যুবকটি তখনও টলছিলেন- যে অমানুষিক নির্যাতন তাঁর উপর দিয়ে সামান্য পূর্বেই হয়ে গেছ, এ তারই জের। কতা বলার শক্তিটুকুও তাঁর ছিল না- কিন্তু তাঁর ছোট্ট চক্ষু অথচ প্রশান্ত উজ্জ্বল দৃষ্টি লেখকের সমস্ত সত্বাকে অভিভূত করে দিল। তাঁর সেই দৃষ্টি যেন চির উন্নত শিরে ঘোষণা করছিল যে তিনি ‘মৃত্যুর চেয়েও বড়’। বুঝতে অসুবিধা হলো না যে-শাসন ব্যবকস্থার অন্তর্ভুক্ত এ নাটক শাসক কারখানায় ‘মানুষ’ তৈরী করারই একটা বিশেষ বিশিষ্ট অঙ্গ। থাক তাদের এ Master Plan এর আলোচনা, - এ নিয়ে শাসকগোষ্ঠী থাকুক তাদের নীতিবোধ নিয়ে : লেখকের এ নিয়ে চিন্তা-ভাবনার কোন প্রয়োজন নাই।

সামলে উঠতে যুবকটির বেশ কিছুক্ষণ সময় লাগল। নিঃশব্দেই সময় গড়িয়ে গেল। হঠাৎ যুবকটি তাঁর উজ্জ্বল চোখের দৃষ্টি লেখকের উপর ন্যস্ত করে সম্ভাষণ করলেন--‘চন্দ্র বোস-- জয় হিন্দ’। লেখকের দিক থেকে একই ভাবে প্রতিসম্ভাষণ উচ্চারিত হলো-- অতি সন্তর্পনে, ফিসফিসিয়ে সেন্ট্রির চোখ-কানকে এড়িয়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই ওঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হলো। একটা বিশ্বস্ততার সম্পর্ক গড়ে উঠতেও বিশেষ সময় লাগল না।

যুবকটি উংরাজিতে জানালেন তাঁর না ‘লী’। তিন চার পুরুষ ধরেই ওরা মালয়ে বসবাস করছেন। শিরায় শিরায় চীনা রক্ত প্রবাহিত হলেও মালয়-সিঙ্গাপুর-কুয়ালালামপুরই তাঁর জন্মভূমি ও মাতৃভূমি তিনি স্বেচ্ছায় ‘চন্দ্রবোসের’ ‘আজাদ হিন্দ ফৌজে’ যোগ দিয়েছেন ভারত তথা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুক্তি সংগ্রামকে সাফল্যের জয়টীকা পড়িয়ে দেওয়ার সঙ্কল্প নিয়ে। সাবমেরিনে উড়িষ্যা উপকূলে উঠেছেন। তাঁর আগমন কলকাতার অধিবাসীর মধ্যে কাজ করার জন্য। কলকাতাস্থিত চীনারাও তো পুরুষ-পরম্পরায় ভারতের মাটিতে বসবাস করছে--নিশ্চই ওরাও ভারতকে নিজ মাতৃভূমি রূপে গ্রহণ করেছে। তাহলে তো ওরা নিশ্চই ‘চন্দ্রবোসের, ‘আজাদ হিন্দ ফৌজে’ সামিল হবে। এ বিশ্বাসের উপর তাঁর প্রচেষ্টা অবিশ্যি সফল হয় নাই। কোনও চীনার বিশ্বাসঘাতকতায় তিনি বৃটিশ পুলিশের শিকার হয়েছেন। ইংরেজের হাতে তিনি ধরা পড়েছেন, কাজে কাজেই ইংরেজের ফাঁসির দড়িতেই আত্মাহুতি দেবার জন্য তিনি প্রস্তুত হয়ে আছেন।



 

প্রতিবেশী ওয়েবজিন